আমাদের গ্রাম রচনা সকল শ্রেনীর জন্য

আমাদের গ্রাম নিয়ে রচনা

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় শিক্ষর্থী ভাই ও বোনেরা তোমাদের জন্য আমরা আমাদের গ্রাম রচনা নিয়ে আসছি। তোমরা যাতে খুব সহজে এখান থেকে পড়তে পারো আমাদের গ্রাম রচনা। এখন প্রায় সব পরিক্ষায় আমাদের গ্রাম রচনা আসে। ক্লাস ৬ থেকে ১০ম শ্রেনী পর্যন্ত সবাই এই আমাদের গ্রাম রচনা পড়তে পারবে। রচনাটি পড়ার আগে জেনে নাও প্রবন্ধ রচনা লেখার নিয়ম। আমাদের গ্রাম রচনা টিতে কি কি থাকতেছে তা সুচিতে দেখে নেই।

সূচিপত্র

আমাদের গ্রাম রচনা ক্লাস 3-4

আমাদের গ্রাম রচনা ভূমিকাঃ

 

বাংলাদেশের আশি ভাগ লোকই গ্রামে বাস করে। গ্রাম বাংলার একটি বর্ধিষ্ণু গ্রাম করটিয়া। যে গ্রামে আমার শৈশব-কৈশোরের সোনালি দিনগুলো কেটেছে।

আমাদের গ্রামের অবস্থানঃ

টাঙ্গাইল জেলায় অবস্থিত করটিয়া একটি আদর্শ গ্রাম। গ্রামটির দৈর্ঘ্য আড়াই কিলোমিটার এবং গ্রন্থ প্রায় দুই কিলোমিটার। গ্রামের ভেতর দিয়ে অনেকগুলো প্রশস্ত কাঁচা/পাকা রাস্তা উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব- পশ্চিম দিকে ছড়িয়ে আছে। গ্রামের ঠিক মাঝখান দিয়ে একটি পাকা রাস্তা রয়েছে- যা দক্ষিণে ঢাকা জেলা এবং উত্তরে ময়মনসিংহ জেলা পর্যন্ত বিস্তৃত।

আরো পড়ুন – গরুর রচনা সকল শ্রেনীর জন্য

আমাদের গ্রামের জনসংখ্যাঃ

 

করটিয়া গ্রামের জনসংখ্যা প্রায় আট হাজার। মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই কৃষিজীবী। আমাদের গ্রামের উচ্চ শিক্ষিত লোকদের মধ্যে শিক্ষক,অধ্যাপক, ডাক্তার ও চাকরিজীবীর সংখ্যা অন্যান্য গ্রামের তুলনায় অনেক বেশি। শিক্ষিত শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরসংখ্যাও কম নয়। এছাড়া গ্রামে রয়েছে কামার, কুমার, তাঁতি, জেলে, মাঝি, কবিরাজ প্রভৃতি জনগোষ্ঠীর লোক।গ্রামের অধিকাংশ মানুষ সহজ-সরল ও ধর্মভীরু। গ্রামের মানুষ বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানে সমভাবে অংশগ্রহণ করেথাকে । গ্রামে হিন্দু, মুসলিম সবাই পরস্পর মিলেমিশে বসবাস করে।

আমাদের গ্রামের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানঃ

 

আমাদের গ্রামে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ রয়েছে। আমাদের ‘সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ’ বিদ্যানুরাগীদের একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ কলেজ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে। গ্রামে দুটি মসজিদ রয়েছে। এছাড়া দুটি ব্যাংক, একটি ডাকঘর এবং একটি বৃহৎ বাজার রয়েছে। এখানে প্রতিদিন বাজার বসে। প্রতি বৃহস্পতিবারে এখানে সাপ্তাহিক হাট বসে।

আমাদের গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যঃ

 

আমাদের গ্রামের প্রাকৃতিক দৃশ্য অতি মনোরম। গ্রামের আম, কাঁঠাল, লিচু, নারিকেল ও সুপারির বাগানগুলো সত্যিই নয়নাভিরাম। পাখিদের কলতান, সবুজ মাঠ, সোনালি ধানক্ষেত, বর্ষার পানিতে প্লাবিত জলাশয়— এসব দৃশ্য খুবই মনোমুগ্ধকর।

উপসংহারঃ

আমাদের গ্রামটি সত্যিই একটি আদর্শ গ্রাম। গ্রামের সকলের মধ্যে যথেষ্ট ভ্রাতৃত্ব ও মৈত্রীর ভাব বিদ্যমান।

গরুর রচনা সকল শ্রেনীর জন্য।

আমাদের গ্রাম রচনা ক্লাস 6

 

আমাদের গ্রাম রচনা ভুমিকাঃ

 

মাতৃভুমি মানুষের কাছে স্বর্গবিশেষ। আমার গ্রাম আমার কাছে স্বর্গ। আমার জন্ম গ্রামে । আমার গ্রামের চেয়ে পবিত্র আর কিছু নেই। যেখানে আমার জন্ম, সেই গ্রামের জল আমার তৃষ্ণা মিটিয়েছে, খেতের ফসল ক্ষুধা দূর করেছে, পাখির কলকাকলি আমার ঘুম ভাঙিয়েছে, মুক্ত বাতাস আমার প্রাণ সজীব রেখেছে। ছায়ায় ঘেরা মায়ায় জড়ানো আমার গ্রাম । কবির ভাষায় :

See also  বিদ্রোহী কবিতার বহুনির্বাচনী প্রশ্নের উত্তর

আমাদের গ্রামখানি ছবির মতন,

মাটির তলায় এর ছড়ানো রতন।

আমাদের গ্রামের নাম ও অবস্থানঃ

 

আমার গ্রামের নাম রূপনগর | গ্রামের দক্ষিণ পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে ছোট খাল। পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে গেছে নদী; যদিও নদীটি গীঁয়ের মানুষের কাছে বড় খাল নামে পরিচিত। গোপালগঞ্জ জেলায় ছায়াময় মায়াময় এ-গ্রাম। নদীর পূর্ব পাড়ে বরিশাল জেলা শুরু । পূর্ব-পশ্চিমে দু-মাইল লম্বা ও উত্তর-দক্ষিণে দেড় মাইল প্রশস্ত।

লোকসংখ্যাঃ

 

আমাদের গ্রামে প্রায় তিন হাজার লোক বাস করে। এগ্রামে সকল ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে। সবার মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট ।

আমাদের  গ্রামের  পোশাক-পরিচ্ছদঃ

 

আমাদের গ্রামের মানুষ ভালো কাপড়চোপড় পরে। পুরুষেরা লুঙ্গি, পাজামা, পাঞ্জাবি, শার্ট এবং মেয়েরা সালোয়ার, কামিজ, শাড়ি পরে।

আমাদের গ্রামের  পেশাঃ

 

আমাদের গ্রামের প্রায় প্রতি বাড়িতে উচ্চশিক্ষিত লোক রয়েছেন। তাঁরা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে উচ্চপদে কর্মরত আছেন। বাংলাদেশের বাইরেও অনেকে কর্মরত । যাঁরা গ্রামে বসবাস করেন, তাদের কেউ কৃষক, কেউ-বা ব্যবসায়ী ৷ এ ছাড়া নানান পেশার লোক রয়েছেন আমাদের গ্রামে । তাদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, উকিল, তাঁতি, জেলে, কামার, কুমার, সুতোর ।

আমাদের গ্রাম এর  ঘরবাড়িঃ

 

আমাদের গ্রামের বেশির ভাগ ঘরবাড়ি টিনের তৈরি । বারোটি দালান রয়েছে। কোনো কোনো বাড়ি ছনের বা খড়ের তৈরি।

উৎপন্য দ্রব্যঃ

 

গ্রামের প্রধান ফসল ধান। আমাদের গ্রামে প্রচুর ধান হয়। এ ছাড়াও উৎপন্ন হয় পাট, গম, ডাল, সরিষা, তিল, আখ এবং নানারকম শাকসবজি । প্রচুর পরিমাণে গাভীর দুধ পাওয়া যায়। পুকুর, খাল ও নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। সব বাড়িতেই হীস-মুরগি পালন করে । বাগানে আম, জাম, কীঠাল, কলা, পেয়ারা, নারকেল, জাম, সুপারি, তাল, বেল, হরীতকী, আমলকী ইত্যাদি পাওয়া যায়। গ্রামের মানুষের নিজেদের খাবারের জন্য যা প্রয়োজন তার প্রায় সবই গ্রামে উৎপন্ন হয়।

আমাদের গ্রামের  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানঃ

 

আমাদের গ্রামে দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে। গ্রামের ছেলেমেয়েরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জীবনের প্রথম পাঠ শুরু করে। প্রাথমিক পাঠ শেষ করে ভর্তি হয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে । আমাদের গ্রামে একটি স্বেচ্ছাসেবক নৈশ বিদ্যালয় আছে। যারা লেখাপড়া জানেন না, গ্রামের শিক্ষিত যুবকেরা তাদের সন্ধ্যার পর লেখাপড়া শেখান । আমাদের গ্রামে কোনো নিরক্ষর লোক নেই। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আমাদের গ্রামে যেমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, তেমনি রয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানও । যেমন-_ পোস্ট অফিস, দাতব্য চিকিৎসালয়, কৃষি অফিস।

আমাদের গ্রামের  হাটবাজার ও দোকানপাটঃ

 

আমাদের গ্রামে একটি বড় হাট আছে। সপ্তায় দুইদিন হাট বসে। হাটবার হলো : শনিবার ও বুধবার ৷ হাটের দিন অনেক দূর থেকে বহু ক্রেতা-বিক্রেতা আসে । হাটে ধান, চাল, আলু, বেগুন, পটল, পাট, হাস, মুরগি ইত্যাদি প্রায় সবধরনের জিনিসপত্র বেচাকেনা হয়। গ্রামে প্রতিদিন সকালে বাজার বসে । মাছ, দুধ, শাকসবজিসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় প্রায় সব জিনিস এখানে পাওয়া যায়।

আমাদের গ্রাম এর  যোগাযোগ ব্যবস্থাঃ

 

গ্রামের পূর্ব পাশ দিয়ে নদী বয়ে চলেছে। গ্রামের তিন পাশে রাস্তা রয়েছে। দক্ষিণের রাস্তায় গাড়ি চলে । এ-গাড়ি কোটালীপাড়া হয়ে চলে যায় গোপালগঞ্জ । উঁচু বাধের উপর দিয়ে রিকশা, ভ্যান চলে । যখন গ্রামে পানি ওঠে, তখন রাস্তা থাকার কারণে লোকজনের চলাচলে কোনো সমস্যা হয় না। সব রাস্তায় রিকশা-ভ্যান চললেও গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ হেঁটে চলাচল করে।

আমাদের গ্রাম এর  প্রাকৃতিক সৌন্দর্যঃ

 

See also  এস এস সি ইংরেজি ১ম পত্র সাজেশন ২০২৩

প্রকৃতি যেন তার খেয়ালে আমাদের গ্রামটি সাজিয়েছে। যেদিকেই তাকানো হোক না কেন, সেদিকেই সবুজ মেহগনি, শিশুকাঠসহ নানারকমের গাছ গ্রামকে ছায়াময় করে তুলেছে। মাঠভরা শস্যখেতের উপর দিয়ে যখন বাতাস বয়, তখন মনে হয় যেন সবুজ সমুদ্রে ঢেউ উঠেছে।

আমাদের গ্রাম এর  সামাজিক অবস্থাঃ

 

অর্থনৈতিক দিক থেকে আমাদের গ্রাম সচ্ছল । গ্রামের সবাই স্বনির্ভর বলে চুরি-ডাকাতি খুন-খারাবির কোনো বালাই নেই। গ্রামের শতভাগ লোকের অক্ষরজ্ঞান থাকায় কোনো রকমের কুসংস্কার নেই।

আমাদের গ্রাম রচনা  উপসংহারঃ

 

সুজলা সুফলা শস্য-শ্যামলা আমাদের শ্বাম। এমন খ্রামে জন্ম নিয়ে ধন্য আমি। আমাদের খামের সকল প্রকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আমি এগিয়ে যাব। কুপ্রভাব থেকে গ্রামকে মুক্ত রাখব; আমরা সবাই মিলে গ্রামের এঁতিহ্য বজায় রাখব_ এ আমাদের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ।

আমাদের গ্রাম রচনা ক্লাস ৭ 

 

আমাদের গ্রাম এর ভূমিকা :

 

সবুজে শ্যামলে ভরা আমাদের এদেশের বেশির ভাগ স্থানজুড়ে রয়েছে গ্রাম । আমাদের এ গ্রামগ্ডলো যেন সবুজের লীলাভূমি । গ্রামের সবুজ প্রকৃতি যেকোনো মানুষের হৃদয়কে প্রশান্তিতে ভরে দেয়। গ্রামের শান্ত পরিবেশ মানুষের সকল ক্লান্তি দূর করে । গ্রামই এদেশের প্রাণ ।

আমাদের গ্রামের অবস্থান :

 

আমাদের গ্রামের নাম রতনপুর। এটি ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার অন্তর্গত। এর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ইছামতী নদী । নদীর দুপাশের প্রাকৃতিক শোভা এ গ্রামকে অপূর্ব সৌন্দর্য দান করেছে। ঢাকা থেকে সড়ক পথে খুব সহজেই আমাদের গ্রামে আসা যায়।

আমাদের গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য :

 

আমাদের গ্রামখানি ছবির মতো। আম-জাম, কাঁঠাল-লিচু, নারিকেল-সুপারি, শিমুল-পলাশ, তাল-তমাল আর নানাজাতের গাছপালায় সুসজ্জিত আমাদের এই গ্রাম। ঝোপঝাড় লতাপাতার নিবিড় ঘনিষ্ঠতা সবার মন কেড়ে নেয়। পাখপাখালির কলকুজনে সব সময়ই মুখর থাকে গ্রামখানি। দিগন্তবিস্তৃত ফসলের মাঠ, ধান-কাউনের হাতছানি, নিঝুম দুপুরে বটের ছায়ায় রাখালের বাঁশি উদাস করে মনপ্রাণ। দিঘী-ডোবা, বিল-ঝিল- কী এক অপূর্ব সৌন্দর্যের সঞ্চয়!

আমাদের গ্রামের মানুষ :

 

আমাদের গ্রামে মুসলমান, হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মের মানুষ বাস করে। তাদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক কোনো ভেদাভেদ নেই । প্রত্যেকেই প্রত্যেকের ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল । তাই সব মানুষ এখানে সুখে-শান্তিতে বসবাস করে।

আমাদের গ্রামের মানুষের জীবিকা :

 

আমাদের গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। এছাড়া কিছু জেলে এবং তাতিও এখানে রয়েছে। কিছু মানুষ লেখাপড়া শিখে শহরে চাকরি করে । তবে সে সংখ্যা নিতান্তই কম। এছাড়া কিছু মানুষ দিনমুজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করে।

আমাদের গ্রামের অর্থনৈতিক উৎস :

 

বাংলাদেশের বেশিরভাগ গ্রামের মানুষই কৃষির উপর নির্ভরশীল । তবে আমাদের গ্রামের চিত্র একটু ভিন্ন । গ্রামের বেশিরভাগ পরিবারেরই একজন করে দেশের বাইরে থাকে । তাদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা এ গ্রামের মানুষের আর্থিক অবস্থাকে মজবুত করেছে। গ্রামের আয়ের আরেকটি বড় উৎস কুটির শিল্প । প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই নকশীকীথা, উলের তৈরি গালিচা, পাটের তৈরি নানা গৃহসজ্জার পণ্য তৈরি হয়। এগুলো শহরে বিক্রি করে গ্রামের মানুষ প্রচুর অর্থ আয় করে। এছাড়া কৃষিজাত পণ্য যেমন : ধান, পাট, গম ও নানা ধরনের সবজি তরকারি বিক্রি করেও গ্রামের মানুষ অর্থ রোজগার করে । প্রতি বুধবার গ্রামে হাট বসে। হাটে শহরের লোকজন এসে সরাসরি গ্রামের কৃষকদের কাছ থেকে কৃষিজাত পণ্য সংগ্রহ

আমাদের গ্রামের প্রতিষ্ঠান :

 

আমাদের গ্রামে একটি প্রাথমিক ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এ ছাড়া একটি কামিল মাদ্রাসা রয়েছে । আরো রয়েছে একটি স্বাস্থ্য কমপ্রেক্স ও দুটি বেসরকারি অফিস। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটি মসজিদ, একটি মন্দির ও একটি গির্জা রয়েছে। খ্রামের শেৰ প্রান্তে রয়েছে একটি পোস্ট অফিস।

আমাদের গ্রামের সংস্কৃতি :

 

সাংস্কৃতিকভাবে আমাদের গ্রাম খুবই উন্নত। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এখানে নানা ধরনের মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়। যেমন : চৈত্র মাসের শেষে চৈত্রসংক্রান্তির মেলা, বৈশাখ মাসে বৈশাখি মেলা, অদ্রাণ মাসে নবান্ন অনুষ্ঠান, পৌষ মাসে পিঠার অনুষ্ঠান ইত্যাদি । গ্রামের মুসলিম ও হিন্দু বিয়েতে লোকজ গান, নাচ ও খাবারের আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দিবসে স্কুলে অনুষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবেও লোকজন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।

See also  স্কুল জীবনের স্মৃতি বাংলা রচনা

স্বাধীনতা সংগ্রামে গ্রামের অবদান :

 

মহান মুক্তিযুদ্ধে এ গ্রামের মানুষের অবদান অনেক । এ গ্রামের মানুষের সাহসিকতা ও বীরত্ে পাকিস্তানি বাহিনী এ গ্রামে প্রবেশের খুব একটা সুযোগ পায়নি । মুক্তিযুদ্ধের সময় এ অঞ্চলের দুজন আঞ্চলিক কমান্ডার এ গ্রামে থেকেই যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন । পাকিস্তানি বাহিনীর গতি রোধ করার লক্ষ্যে এ গ্রামের এক ছেলে বিজ ধ্বংস কতে গিয়ে শহিদ হয়েছেন। তার এবং মুক্তিযুদ্ধে আরো যারা শহিদ হয়েছেন তাদের স্মরণে গ্রামে একটি শহিদ মিনার স্থাপন করা হয়েছে।

উপসংহার :

 

আমাদের রতনপুর গ্রাম আমাদের কাছে খুব প্রিয় । এ গ্রামের প্রকৃতি মায়ায় জড়ানো । রতনপুরের মানুষ সহজ-সরল ও অতিথিপরায়ণ। ইছামতী নদীর সৌন্দর্য এ গ্রামকে করেছে অন্য সব গ্রাম থেকে আলাদা । রতনপুর গ্রামের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে ।

 

আমাদের গ্রাম রচনা ক্লাস 9-10

 

ভূমিকা :

 

আমাদের গ্রামের নাম রাজারকুল। কক্সবাজার জেলার রামু থানার অন্তর্গত এই গ্রাম। এটি জেলা সদর থেকে পনেরোকিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে ও থানা সদর থেকে তিন কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। এর পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে বাঁকখালী নদী।

আয়তন লোকসংখ্যা :

 

এ গ্রামের আয়তন প্রায় ১৮ বর্গকিলোমিটার। এখানে প্রায় ষোল হাজার লোক বাস করে। অধিবাসীদের মধ্যে প্রায় শতকরা নব্বই ভাগ লোক মুসলমান। অবশিষ্ট দশ ভাগ হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোক। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক এখানে শান্তি ও সম্প্রীতির সঙ্গে যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছে।

অধিবাসীদের পেশা :

 

গ্রামটিতে কৃষি জমির পরিমাণ বেশি। এ কারণে গ্রামের অধিকাংশ লোক কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। এখানে বহু ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীও আছেন। এছাড়া আছেন শিক্ষক, ডাক্তার ও আইনজীবী। কৃষক ব্যতিরেকে দরিদ্রের মধ্যে বহু শ্রেণির শ্রমিকও আছে। বিত্তের দিক থেকে এ গ্রামে তিন শ্রেণির লোক আছে : উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র।

উচ্চবিত্ত লোকেরা সাধারণত বহু জমি-জমার মালিক অথবা বড় ব্যবসায়ী কিংবা উচ্চ-চাকরিজীবী। এদের সংখ্যা খুব বেশি নয়। শিক্ষক, ডাক্তার, ছোট ব্যবসায়ী ও ছোট চাকরিজীবীদেরকে মধ্যবিত্ত পর্যায়ে ধরা যায়। দরিদ্র লোকেরা সাধারণত কৃষি বা কুটির শিল্পে নিয়োজিত; অন্যরা শ্রমিক ও দিনমজুরের কাজ করে থাকে।

 

এ গ্রামে উচ্চবিত্তদের কয়েকটি পাকা বাড়ি আছে। মধ্যবিত্তদের ঘর- বাড়ি সাধারণত বাঁশ, কাঠ ও টিনের তৈরি। দরিদ্ররা বাঁশ ও খড়ের তৈরি ঘরে বাস করে। উৎপন্ন দ্রব্য ও হাটবাজার : আমাদের গ্রামের প্রধান উৎপন্ন দ্রব্য ধান। তাছাড়া পাট, ইক্ষু, নারিকেল, সুপারি ও রবিশস্য প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত হয়।

 

বিভিন্ন ঋতুতে আম, কাঁঠাল, তরমুজ, লেবু ইত্যাদিও জন্মে। বিভিন্ন বাড়িতে পুকুরে মাছ চাষ করা হয়। অনেকেই হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল পালন করে থাকে। এসব উৎপাদিত সামগ্রী থেকে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত অংশ বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করে থাকে অনেকেই। গ্রামটির দু’প্রান্তে দুটি বাজার আছে। প্রত্যেকটিতে সপ্তাহে দুবার করে হাট বসে। বাজারদুটি গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ আমদানি-রপ্তানি ও সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার অবস্থা :

 

আমাদের গ্রামে একটি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি সিনিয়র মাদ্রাসা, তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি কিভারগার্টেন স্কুল আছে। তাছাড়া থানা সদরে একটি ডিগ্রি কলেজ আছে। গ্রামের ছেলে-মেয়েরা এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করে। এ গ্রামের শিক্ষার হার প্রশংসনীয়।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান :

 

আমাদের গ্রামে একটি ডাকঘর, একটি দাতব্য চিকিৎসালয়, একটি টেলিগ্রাফ অফিস, একটি কৃষি অফিস ও একটি ব্যাংক আছে। এখানে আটটি মসজিদ ও দুটি ঈদগাহ্ আছে। তাছাড়া হিন্দুদের একটি মন্দির ও বৌদ্ধদের একটি প্রাচীন প্যাগোড়া রয়েছে। এখানে প্রতিটি সম্প্রদায় অত্যন্ত নির্বিঘ্নে নিজেদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে থাকে। আমাদের গ্রামটি একটি আদর্শ গ্রাম বলে আমরা মনে করি। কেননা এখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধরা পারস্পরিক সম্প্রীতির সঙ্গে বহুকাল থেকে শান্তিতে বসবাস করে আসছে।

 

যোগাযোগব্যবস্থা :

গ্রামের মধ্যে চলাচলের কয়েকটি রাস্তা আছে। গ্রামের পাশের নদীর ওপর একটি সেতু আছে। ওই সেতু এমটিকে থানা সদরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। একটি আধাপাকা সড়ক দিয়ে রিকশা, অটোরিকশা, টেম্পু ও মাইক্রোবাস গ্রামটি থেকে থানা সদর পর্যন্ত চলাচল করে।

 

থানা সদরের ওপর দিয়ে জেলা সদর পর্যন্ত যোগাযোগব্যবস্থা অত্যন্ত ভালো। তাছাড়া গ্রামের পাশের নদী দিয়ে নৌকা ও সাম্পানযোগে পণ্য আনা-নেওয়ার সুবিধা আছে। আমাদের গ্রামে বৈদ্যুতিক সংযোগ আছে। ফলে কৃষিকাজে পাম্পের সাহায্যে পানি সেচের ব্যবস্থা আছে এবং বাড়ি-ঘরে রেডিও, টেলিভিশন ও কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ আছে।

আমাদের গ্রাম রচনা ভিডিও

 গরুর রচনা সকল শ্রেনীর জন্য।

 

উপসংহার :

 

আমাদের গ্রাম একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও সমৃদ্ধ গ্রাম। গ্রামবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক ও ভ্রাতৃভাব বিদ্যমান। তারা উৎসবে-পার্বণে, বিপদে-আপদে একে অন্যের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। এমন একটি গ্রামে জন্মেছি বলে আমি সত্যি গর্ব অনুভব করি।

 

পোষ্টটি  লিখেছেনঃ

মোঃ রাজু আহমেদ 

Leave a Comment