লখার একুশে গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

হ্যালো প্রিয় বন্ধুরা, আশা করি আপনারা সকলেই অনেক ভালো আছেন। আপনাদের কে আমাদের এই সাইটে আমার পক্ষ থেকে জানাই স্বাগতম। আজকের পোস্ট এ আমি আপনাদের সাথে লখার একুশে গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর এই বিষয় টি নিয়ে কথা বলবো। তো চলুন দেরি না করে পোস্ট টি শুরু করে দেওয়া যাক।

 

লখার একুশে গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

 

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমাদের বইয়ের পাঠ্য বিষয় বস্তুর মধ্য অন্যতম ও প্রয়োজনীয় হলো লখার একুশে গল্প। লখার একুশে গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর নিচে কয়েকটি দেওয়া হলো। আশা করি সেগুলো তোমাদের কাজে লাগবে। নিচে বাছাই করা কিছু প্রয়োজনীয় এবং যে বিষয় থেকে বেশি প্রশ্ন করা হয় এটা থেকে সেগুলোর অংশ বিশেষ দেওয়া হলো।

 

লখার একুশে গল্পের সৃজনশীল – ১

মা-মরা মেয়ে মিনু। বাবা জন্মের আগেই মারা গেছে। সে মানুষ হচ্ছে এক দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে। বয়স মাত্র দশ, কিন্তু এই বয়সেই সবরকম কাজ করতে পারে সে। সবরকম কাজই করতে হয়। লােকে অবশ্য বলে যােগেন বসাক মহৎ লােক বলেই অনাথা বােবা মেয়েটাকে আশ্রয় দিয়েছেন। মহৎ হয়ে সুবিধাই হয়েছে যােগেন বসাকের। পেটতায় এমন সর্বগুণান্বিতা চব্বিশ ঘন্টার চাকরানি পাওয়া শক্ত হতে তার পক্ষে। বােবা হওয়াতে আরাে সুবিধা হয়েছে, নীরবে কাজ করে। মিনু শুধু বােবা নয়, ঈষৎ কালাও।

ক. হাতের মুঠো পাকিয়ে লখা কী করল?

খ. লখা কেমন জীবনযাপন করে? ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের মিনু ও ‘লখার একুশে গল্পের লখার মধ্যকার সাদৃশ্য বর্ণনা কর।

ঘ. উদ্দীপকটি লখার একুশে’ গল্পের চেতনার সম্পূর্ণ বহিঃপ্রকাশ নয়- তােমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দেখাও।

 

উত্তরঃ

ক। হাতের মুঠো পাকিয়ে লখা মনটাকে শক্ত করে নিল।

খ। লখা অত্যন্ত নিম্নমানের জীবনযাপন করে।

লখা রাস্তার মানুষ। তার রাতের শােওয়ার জায়গা হলাে ফুটপাতের মেঝে। দিনের বেলা যে মেঝে রােদে গরম থাকে, রাতের বেলা সেই মেঝেই ঠান্ডা হিম হয়ে যায়। লখা সেই ঠান্ডা মেঝেকে বিছানা মনে করে রাতে ঘুমায়। সেই মেঝের ঠান্ডায় লখার বুকে কাশি জমে, গায়ে জ্বর আসে। সে জানে না তার বাবা কে। তার মা রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষা করে। লখা সারাদিন গুলি খেলে, কাগজ কুড়ায়, বন্ধুদের সঙ্গে মারামারি করে। আর খাবারের দোকানের এটোপাতা চেটে খেয়ে নিজের ক্ষুধা মেটায়। এভাবেই চলে যায় লখার জীবন।

গ। জীবন বাস্তবতার দিক থেকে উদ্দীপকের মিনু ও ‘লখার একুশে’ গল্পের লখার মধ্যকার সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়।

পিতৃমাতৃহীনদের জীবনে কষ্টের শেষ নেই। তাদের যত্ন নেওয়ার মতাে কেউ থাকে না। এমনকি তাদের অনেক সময় অসুখ-বিসুখ হলেও খোজ নেওয়ার কেউ থাকে না। তাই পিতৃমাতৃহীনদের প্রতি আমাদের সবারই যত্নশীল হওয়া প্রয়ােজন।

উদ্দীপকের মিনুর বাবা-মা নেই। ছােটবেলা থেকেই সে অনাথ। তার জন্মের আগেই তার বাবা মারা যায়। সে বােবা এবং ঈষৎ কালা। তার বাবা-মা না থাকার কারণে সে দূরসম্পর্কের সব ধরনের এক পিসিমার বাড়িতে থাকে। যেখানে তাকে থাকতে দেওয়ার নামে কাজ করানাে হয়। লখার একুশে গল্পে লখাও বাবাকে দেখেনি। সে বাবাকে চেনে না। লখা কথা বলতে পারে না, জন্মবােবা। বাবা না থাকায় তার মা রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষা করে। তারা রাস্তার ফুটপাতে ঘুমায়। সেই কারণে লখার বুকে কাশি জমে, জ্বর আসে। কিন্তু ফুটপাত ছাড়া তাদের আর থাকার জায়গা নেই। উদ্দীপকের মিনু যে জীবনবাস্তবতার মুখােমুখি হয়েছে ‘লখার একুশে’ গল্পের, লখাও সেরকম জীবনবাস্তবতার সম্মুখীন হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মিনু ও ‘লখার একুশে গল্পে লখার মধ্যে সাদৃশ্য দেখা যায়।

ঘ। উদ্দীপকটি লখার একুশে গল্পের চেতনার সম্পূর্ণ বহিঃপ্রকাশ নয়- মন্তব্যটি যথার্থ।

চেতনা মানুষের অনেক বড় একটি সম্পদ। যখন মানুষের কোনাে চেতনা কাজ করে না, তখন মানুষ জীবিত আছে নাকি মৃত তা বােঝা যায় না। কিন্তু যখন মানুষের মাঝে চেতনা কাজ করে, তখন সে তার আশপাশের সব পরিস্থিতি অনুভব করতে পারে। শুধু তাই নয়, বিচার-বিবেচনাও করতে পারে।

See also  অঙ্গীকারনামা লেখার নিয়ম

উদ্দীপকে পিতৃমাতৃহীন মিনুর করুণ জীবনকাহিনি ফুটে উঠেছে। মিনু বােবা, সে কানেও শােনে খুব কম। এজন্য চাইলেও সে মনের সব কথা বলতেও পারে না। দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে থেকে সে বড় হচ্ছে। সেই সঙ্গে তাকে ছােট বয়সেই কাজের লােকের মতাে সব কাজ করতে হয়। লখার একুশে’ গল্পে লখার বাবা নেই। সে রাস্তার ফুটপাতে মানুষ। দোকানের এটোপাতে চেটে সে খাবারের চাহিদা মেটায়। ফুটপাতে শােওয়ার কারণে তার গায়ে জ্বর ওঠে। কিন্তু এত কিছুর পরেও লখার মাঝে ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা রয়েছে। একুশে ফেব্রুয়ারি সম্পর্কে জ্ঞান রয়েছে। সেজন্য লখা ভােররাতে মায়ের পাশ থেকে উঠে যায় ফুল জোগাড় করতে, শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানাের জন্য। শহিদ মিনারের উদ্দেশে প্রভাতফেরিতে অংশ নেয় সে এবং বােবা হয়েও ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানাে’ গানটি গাওয়ার চেষ্টা করে।

উদ্দীপকে পিতৃমাতৃহীন মিনুর করুণ জীবনের কথা ফুটে উঠেছে। সেই সঙ্গে তার শারীরিক প্রতিবন্ধিতার দিকটিও প্রকাশ পেয়েছে উদ্দীপকে। কিন্তু লখার একুশে’ গল্পে লখার জীবন আর দশটা সাধারণ ছেলেমেয়ের মতাে গােছানাে না হলেও তার মাঝে ছিল দেশ-ভক্তি। সে বােবা এবং অনেকটাই সুবিধাবতি। কিন্তু এরপরও সে শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে এগিয়ে গিয়েছে শহিদ মিনারে। গল্পের এই চেতনার দিকটি উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘লখার একুশে’ গল্পের চেতনার সম্পূর্ণ বহিঃপ্রকাশ নয়।

 

লখার একুশে গল্পের সৃজনশীল – ২

বাংলাভাষার গান শােনালাে যারা
বাংলাদেশের ঘুম ভাঙালাে তারা
ওরা শহীদ ওরা আমার ভাই
ওদের দানের তুলনা যে নাই।
মায়ের মুখের মধুর বাণী
সােনার চেয়ে দামি জানি
ওরা মায়ের মান বাঁচাতে।
জীবন দিল তাই।

ক. লখার পায়ে কী ঢুকে গেল?

খ. লখা হাতের মুঠো পাকিয়ে মনটাকে শক্ত করে নিল কেন?

গ. উদ্দীপকটি লখার একুশেগল্পের কোন দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করেছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকটি ‘লখার একুশে’ গল্পের মূলভাবকে ধারণ করেছে। মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

 

উত্তরঃ

ক। লখার পায়ে কাটা ঢুকে গেল।

খ। গাছের উঁচু ডাল থেকে ফুল পেড়ে আনার জন্য লখা হাতের মুঠো পাকিয়ে মনটাকে শক্ত করে নিল।

লখা শহিদ মিনারে গিয়ে ভাষাশহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে চায়। তাই সে খুব ভােরে ভয়কে পিছনে ফেলে সেই অদ্ভুত গাছটার নিচে পৌছে যায়। গাছটির উঁচু ডালে রক্তের মতাে টকটকে লাল ফুল ফুটে আছে। ভাষাশহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে গাছের উচু ডাল থেকে সে এক থােকা ফুল পেড়ে আনতে চায়। গাছে ওঠার সাহস সঞ্চয়ের জন্য সে হাতের মুঠো পাকিয়ে মনটাকে শক্ত করে নিল।

গ। উদ্দীপকটি ‘লখার একুশেগল্পের ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানাের দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করেছে।

আমাদের মাতৃভাষার সম্মান রক্ষার্থে প্রাণ দিয়েছেন আমাদের দেশের সােনার ছেলেরা। তাদের আত্মত্যাগেই আমরা এখন বাংলা ডাষায় কথা বলতে পারি। তাদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাবােধ থাকবে সারা জীবন।

উদ্দীপকে ভাষাশহিদদের আত্মদানের বিষয়টি উপস্থাপিত রয়েছে। ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে যারা প্রাণ দিয়েছেন তারা আমাদের ভাই। সােনার চেয়েও দামি যে ভাষা, সেই ভাষা যারা শত্রুদের কাছ থেকে রক্ষা করেছেন উদ্দীপকে তাঁদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়েছে। ‘লখার একুশে’ গল্পে ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালােবাসায় বাকপ্রতিবন্ধী লখা রাতের অন্ধকারে ফুল ছিড়ে নিয়ে গিয়ে ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। সে কথা বলতে পারে না, তবু সে জানে ভাষাশহিদরা আমাদের ভাষার জন্য লড়াই করে গেছেন।

তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘লখার একুশে’ গল্পের ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানাের দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করেছে।

ঘ। উদ্দীপকটি ‘লখার একুশে গল্পের মূলভাবকে ধারণ করেছে – মন্তব্যটি যথার্থ।

ভাষার মধ্য দিয়েই জাতির পরিচয় ঘটে। কোনাে দেশের ভাষা শুনে সেই দেশ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। আমাদের বাংলা ভাষাও আমাদের বাঙালি জাতির পরিচয় বহন করে।

See also  লালসালু উপন্যাসের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

উদ্দীপকে ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। আমাদের ভাষা মায়ের ভাষা, সােনার চেয়েও দামি ভাষা। এই ভাষার মান রক্ষা করতে যারা জীবন দিলেন, উদ্দীপকে তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশিত হয়েছে। লখার একুশে’ গল্পে লখা প্রতিবন্ধী। সে কথা বলতে পারে না। কিন্তু সে জানে ভাষার জন্য, যারা জীবন দিয়েছেন তারা আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার। তারা সেসময় প্রাণ দিয়েছিলেন বলেই আমরা আজ বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারছি। লখা এই বিষয়গুলাে অনুভব করেছিল বলেই সে শহিদ মিনারে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যায়।

উদ্দীপকে ভাষাশহিদদের ত্যাগ ও তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানাের দিকটি ফুটে উঠেছে। ‘লখার একুশে গল্পে , লখার মাঝেও ভাষাশহিদদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধার বিষয়টি দেখা যায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘লখার একুশে গল্পের মূলভাবকে ধারণ করে।

 

আরো পড়ুনঃ প্রতিদান কবিতার সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

 

লখার একুশে গল্পের সৃজনশীল – ৩

আবার ফুটেছে দ্যাখাে কৃষ্ণচূড়া থরে থরে শহরের পথে কেমন নিবিড় হয়ে। কখনাে মিছিলে কখনােবা।একা হেঁটে যেতে যেতে মনে হয়- ফুল নয়, ওরা শহিদের ঝলকিত রক্তের বুদ্বুদ, স্মৃতিগন্ধে ভরপুর। একুশের কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রং।

ক. গাঢ়’ শব্দের অর্থ কী?

খ. ‘বাংলা বুলি তার মুখে ফুটতে পায় না।’- কেন?

গ. উদ্দীপকের ভাবার্থে ‘লখার একুশে’ গল্পের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “একুশের কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রং”উদ্দীপকের এই চরণটিতে ‘লখার একুশে ও উদ্দীপক উভয়ের মূল সুর প্রকাশিত হয়েছে।”- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

 

উত্তরঃ

ক। ‘গাঢ়’ শব্দের অর্থ ঘন।

খ। লখা কথা বলতে পারে না বলে তার মুখে বাংলা বুলি ফুটতে পায় না।

লখা অতি সাধারণ এক কিশাের। সে কথা বলতে পারে না। কারণ সে জন্ম থেকেই বােবা। কথা বলতে না পারলেও সে ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানতে ফুল হাতে শহিদ মিনারে যায়। সবার সঙ্গে গলা মিলিয়ে সেও গাইতে চায় আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানাে একুশে ফেব্রুয়ারি। কিন্তু জন্মবােবা হওয়ার কারণে তার মুখে সুর ফোটে না, শুধু শব্দ হয় আঁ আঁ আঁ ।

গ। উদ্দীপকের ভাবার্থে ‘লখার একুশে’ গল্পের ভাষা আন্দোলনের চেতনার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

ভাষাশহিদদের আত্মত্যাগের কথা বাঙালি জাতি কখনাে ভুলতে পারবে না। প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতি ডাষাশহিদদের শ্রদ্ধা জানানাের জন্য শহিদ মিনারে যায়। প্রভাতফেরিতে সবার হাতে থাকে শ্রদ্ধা নিবেদনের ফুল।

উদ্দীপকে ভাষা আন্দোলনের চেতনার দিকটি বর্ণিত হয়েছে। ভাষাশহিদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ রক্ষিত হয়েছে বাংলা ভাষার মর্যাদা। ভাষাকে ভালােবেসেই তারা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছেন। তাদের লাল রক্তই কৃষ্ণচূড়া হয়ে যেন ফোটে। সেগুলাে যেন শহিদের ঝলকিত রক্তের বুদ্বুদ, যা গর্বের স্মৃতি গন্ধে ভরপুর। লখার একুশে’ গল্পেও কিশাের লখার মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলনের চেতনার দিকটি বর্ণিত হয়েছে। লখা তার মাতৃভাষাকে ভালােবাসে আর ভাষাশহিদদের শ্রদ্ধা করে। তাই লখা কথা বলতে না পারলেও সবার সঙ্গে শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যায়। শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে অনেক কষ্ট করে সে নিয়ে আসে গাছের উঁচু ডালের রক্তের মতাে টুকটুকে লাল ফুল। এ কারণে বলা যায় যে, ভাষা আন্দোলনের চেতনার দিকটি গল্পের পাশাপাশি উদ্দীপকেও প্রতিফলিত হয়েছে।

ঘ। “একুশের কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রং’- উদ্দীপকের এই চরণটিতে ‘লখার একুশে’ ও উদ্দীপক উভয়ের মূল সুর প্রকাশিত হয়েছে।”- মন্তব্যটি যথার্থ।

বাংলার মানুষের কাছে ফেব্রুয়ারি গভীর শ্রদ্ধার মাস। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের একুশ তারিখে রক্ষিত হয় মায়ের ভাষার মর্যাদা। সেই শহিদদের এদেশের মানুষ বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করে।

উদ্দীপকে ভাষা আন্দোলনের চেতনার দিকটি ফুটে উঠেছে। শহরের পথে থরে থরে কৃষ্ণচূড়া ফুটে থাকে। সেগুলাে ফুল নয়, ভাষাশহিদদের ঝলকিত রক্তের বুদ্বুদ। যা তাদের গর্বের স্মৃতিগন্ধে ভরপুর হয়ে আছে। এই কৃষ্ণচূড়া যেন আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছে। একুশের কৃষ্ণচূড়াকে তাই আমাদের চেতনার রং বলা হয়েছে। লখার একুশে’ গল্পেও সাধারণ এক কিশাের লখার মধ্য দিয়ে মাতৃ ভাষাপ্রেমের চেতনার দিকটি বর্ণিত হয়েছে। লখা কথা বলতে না পারলেও গাছের উঁচু ডালে উঠে লাল ফুল সংগ্রহ করে ভাষাশহিদদের শ্রদ্ধা জানানাের জন্য। তার মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে বাঙালির গর্বের উচ্চারণ। লখার মাঝেও যেন ভাষা আন্দোলনের চেতনা ফুটে উঠেছে।

See also  এস এস সি ইংরেজি ১ম পত্র সাজেশন ২০২৩

উদ্দীপক এবং ‘লখার একুশে গল্প উভয় ক্ষেত্রেই ভাষার প্রতি প্রেম এই চেতনার প্রকাশ ঘটেছে। উদ্দীপকে শহিদের ঝলকিত রক্তের কথা এবং ‘লখার একুশে’ গল্পে বর্ণিত শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন যেন একই সূত্রে গাঁথা। তাই আমরা বলতে পারি যে, আলােচ্য গল্পের মূল সুর উদ্দীপকেও প্রকাশিত হয়েছে।

 

লখার একুশে গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর
লখার একুশে গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

 

লখার একুশে গল্পের আরো সৃজনশীল

 

প্রিয় বন্ধুরা উপরে তোমাদের জন্য ৩ টি সৃজনশীল প্রশ্ন এবং উত্তর দেওয়া হয়েছে। আর সেই আলোকে নিচে আরো কয়েকটি সৃজনশীল দেওয়া হলো উত্তর ছাড়া। সেইগুলো তোমরা উপরের সৃজনশীল এবং পাঠ্য বইয়ের আলোকে সলভ করার চেষ্টা করবে।

 

লখার একুশে গল্পের সৃজনশীল – ৪

জাতীয়তার প্রধান উপাদান মাতৃভাষা। আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। এই ভাষার জন্য আমাদের বহু সংগ্রাম এবং জীবন দিতে হয়েছে। জাতির ভাব-কল্পনা, আত্মার আকুলতা, ব্যাকুলতা, হৃদয়ের প্রেম-ভালােবাসা মাতৃভাষার মাধ্যমেই রূপায়িত হয়। তাই মাতৃভাষা মায়ের মতাে। ভাষাশহিদদের আত্মত্যাগ আজ আন্তর্জাতিক পরিসরে মর্যাদা লাভ করেছে। প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি প্রভাতফেরির সময় সকলের কণ্ঠে থাকে আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানাে একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি। পথে পথে মিছিলের ঢল নামে। শত শত মানুষ হাতে ফুলের গুচ্ছ। ধীর পথে সকলে শহিদ মিনারের দিকে এগিয়ে যায়।

ক. লখার বিছানা কেমন?

খ. প্রভাতফেরি’ কথাটি দ্বারা কী বােঝানাে হয়েছে?

গ. উদ্দীপকে ‘লখার একুশে’ গল্পের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে?

ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি ‘লখার একুশে’ গল্পটির সামগ্রিক বিষয়ের প্রতিনিধিত্ব করে না।- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

 

লখার একুশে গল্পের সৃজনশীল – ৫

জসিম মিয়া একজন প্রতিবন্ধী। মুক্তিযুদ্ধে দুটি পা ও একটি হাত হারিয়ে তিনি পঙ্গুত্ব বরণ করেন; কিন্ত মানসিকতায় আজও তিনি পুরোদস্তুর একজন মুক্তিযোদ্ধা। এখন তিনি যুদ্ধ করেন কলম দিয়ে, দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস উন্মোচন করেন। বিজয় দিবস এলে আজও তাই প্রাণের আবেগে সহযোদ্ধাদের স্মরণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

ক. ‘মেঙে’ শব্দের অর্থ কি?

খ. লখাকে কেন ‘ভারি মজার দুষ্ট ছেলে’ বলা হয়েছে?

গ. উদ্দীপকের জমির মিয়ার সাথে গল্পেত লখার সাদৃশ্য নির্ণয় করো।

ঘ. ‘লখা ও জসিম মিয়া লাখো বাঙালির প্রতিচ্ছবি’ -উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

 

লখার একুশে গল্পের সৃজনশীল – ৬

ইশতিয়াক এবার বৃত্তি নিয়ে জাপানে পড়ালেখা করতে চলে আসায় শহিদ দিবস উদযাপন করতে পারে না। অথচ প্রতি বছর সে প্রভাতফেরিতে অংশগ্রহণ করত -বক্তৃতা, আবৃত্তি, আলোচনা শুনতো, সে কথা মনে করে তার চোখ জলে ভরে যেতো। মনে মনে কিছু করার জন্য ইচ্ছা পোষণ করে। অতঃপর ইশতিয়াক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও এর ইতিহাস সহপাঠীদের কাছে তুলে ধরার পরিকল্পনা করে।

ক. লখা রাতে কোথায় ঘুমায়?

খ. ‘জিতে গেছি আমি। গর্বে বুক ফুলে ওঠে লখার।’ -কথাটি দ্বারা কি বোঝানো হয়েছে?

গ. ‘লখা ও ইশতিয়াক দুজনের কাছে শহিদ দিবস ভিন্ন আঙ্গিকে এসেছ।’ -ব্যাখ্যা করো।

ঘ. ‘ইশতিয়াকের শহিদ দিবস উদযাপনের আকাঙ্ক্ষা লখার শহিদ দিবস উদযাপনের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন’ -বিশ্লেষণ করো।

 

শেষ কথা

 

 

তো প্রিয় বন্ধুরা আজকের এই পোস্ট এ আপনারা জানলেন কয়েকটি সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর এবং এরই সাথে কিছু এক্সট্রা সৃজনশীল প্রশ্ন। আশা করছি এই পোস্ট টি আপনাদের কাছে অনেক টা ভালো লেগেছে।

ভালো লেগে থাকলে কিন্তু অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন আমাদের। আর এরকম সব পোস্ট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করতে থাকুন আমাদের এই ওয়েব সাইট টি তে। আবার দেখা হবে পরবর্তী কোনো পোস্ট এ। সে পর্যন্ত সকলে ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। আল্লাহ হাফেয।

 

Leave a Comment