শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

হ্যালো প্রিয় বন্ধুরা, আশা করি আপনারা সকলেই অনেক ভালো আছেন। আপনাদের কে আমাদের এই সাইটে আমার পক্ষ থেকে জানাই স্বাগতম। আজকের পোস্ট এ আমি আপনাদের সাথে শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর এই বিষয় টি নিয়ে কথা বলবো। তো চলুন দেরি না করে পোস্ট টি শুরু করে দেওয়া যাক।

 

শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব প্রবন্ধ পাঠের উদ্দেশ্য

 

শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব প্রবন্ধটি লিখেছেন মোতাহের হোসেন চৌধুরী। উক্ত প্রবন্ধে লেখক শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও অন্তরের মুক্তির মাধ্যমে মনুষ্যত্ব বোধের জাগরণ ঘটাতে চেয়েছেন। এই প্রবন্ধ টি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর অন্যতম গ্রন্থ “সংস্কৃতির কথা” এর অংশ বিশেষ মাত্র। উক্ত প্রবন্ধ পাঠের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শিক্ষার আসল বুঝতে পারবে এবং তাদের মনুষ্যত্ব বোধের বিকাশ ঘটবে।

 

শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

 

প্রিয় নবম – দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা, তোমাদের বইয়ের পাঠ্য বিষয় বস্তুর মধ্য অন্যতম ও প্রয়োজনীয় প্রবন্ধ হলো শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব। শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর নিচে কয়েকটি দেওয়া হলো। আশা করি সেগুলো তোমাদের কাজে লাগবে। নিচে বাছাই করা কিছু প্রয়োজনীয় এবং যে বিষয় থেকে বেশি প্রশ্ন করা হয় এই প্রবন্ধ থেকে সেগুলোর অংশ বিশেষ দেওয়া হলো।

 

শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব সৃজনশীল প্রশ্ন – ১

শাওন সাহেব বিশ্ববিদ্যালয় পড়া শেষে বাবার ব্যবসা দেখাশুনা করছেন। তিনি ব্যবসায় অধিক মুনাফা অর্জনের জন্য শ্রমিকের বেতন ও বোনাসের কিছু অংশ কমিয়ে দেন। তিনি এখন প্রচুর অর্থ ও বিত্তের মালিক। তার বন্ধু হাফিজ সাহেব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বড় চাকরি করেন। তিনি শ্রম ও অর্থ দিয়ে তাঁর গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের নাচ, গান, আবৃত্তি ও নাটকসহ নানা বিষয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। মাঝে মাঝে তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দুর্যোগপূর্ণ স্থানে নিয়ে যান সংস্কৃতিক

ক. লোভের ফলে মানুষের কিসের মৃত্যু ঘটে?

খ. শিক্ষার অপ্রয়োজনের দিকটিকে লেখক শ্রেষ্ঠ দিক বলেছেন কেন?

গ. উদ্দীপকের শাওন সাহেবের মধ্যে ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের হাফিজ সাহেবের চেতনায় ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের আসল উদ্দেশ্য ফুটে উঠেছে” – উক্তিটির মূল্যায়ন কর।

উত্তরঃ

ক. লোভের ফলে মানুষের আত্মার মৃত্যু ঘটে।

খ. শিক্ষার অপ্রয়োজনের দিকই শ্রেষ্ঠ দিক। কারণ এই দিক মানুষের মনকে বিকশিত করে, মনুষ্যত্ব অর্জনে সহায়তা করে।

শিক্ষার দুটি দিক – একটি প্রয়োজনের, অন্যটি অপ্রয়োজনের। দ্বিতীয় দিকটি মানুষের মনের দুয়ার উন্মোচিত করে তাকে শেখায় কীভাবে জীবনকে উপভোগ করতে হয়। শুধু তাই নয়, এর মাধ্যমেই মানুষ অনুভূতি ও কল্পনার রস আস্বাদন করতে পারে। তার সুপ্ত মন শিক্ষার স্পর্শ পেয়ে আর দশজন সাধারণ থেকে পৃথক হয়ে ওঠে। এসব কারণে শিক্ষার অপ্রয়োজনের দিকটিই শ্রেষ্ঠ।

গ. উদ্দীপকের শাওন সাহেবের মধ্যে “শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের জীবসত্তার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

শিক্ষা হচ্ছে জীবসত্তা থেকে মানবসভায় উত্তরণের উপায়। প্রকৃত শিক্ষা মানুষের মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটায়। মানুষকে জীবসত্তা থেকে মানবসভায় উন্নীত করে। মনুষ্যত্বসম্পন্ন মানুষ ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও দেশের হিত সাধনে নিরলস কাজ করেন।

উদ্দীপকে শিক্ষার দুটি প্রধান দিকের ইঙ্গিত করা হয়েছে। এখানে জীবসত্তার পূজারি অর্থলোভী শাওন এবং তার বন্ধু হাফিজের মানবসত্তার অধিকারী। জীবসত্তার কারণে শাওন শ্রমিকের বেতন ও বোনাসের কিছু অংশ কমিয়ে দিয়ে বেশি আয় করার চেষ্টা। করেছেন, যা অন্যায় ও অমানবিক। শাওন শিক্ষিত হলেও প্রকৃত শিক্ষায় সে শিক্ষিত নয়। সে মনুষ্যত্বহীন এবং অর্থের নিগড়ে বন্দি। তাঁর মধ্যে ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের অর্থলোভী মানসিকতা ও জীবসত্তাকে টিকিয়ে রাখার গভীর মনোযোগের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। কারণ সে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যের বাইরে গিয়ে তার স্বার্থ হাসিল করতে চেয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকের হাফিজ সাহেবের চেতনায় ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের আসল উদ্দেশ্য ফুটে উঠেছে”– মন্তব্যটি যথার্থ ।

শিক্ষা মানুষের সার্বিক উন্নতি সাধন করে। প্রকৃত শিক্ষা মানুষের বুদ্ধির উৎকর্ষ সাধন করে আত্মার মুক্তিদান করে। শিক্ষা মানুষকে যায়প্রকাশের সুযোগ দানের মাধ্যমে মনুষ্যত্বলোকের সঙ্গে পরিচিত করে তোলে। তাতে মানুষ অর্থচিন্তার নিগড় থেকে মুক্তি লাভ করে মানবসভায় উপনীত হয়।

উদ্দীপকের হাফিজ সাহেব অর্থচিন্তার নিগড় থেকে মুক্ত হয়ে মানবসত্তায় উপনীত হয়েছেন। ফলে তিনি তাঁর বন্ধু শাওনের মতো শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করেন এবং তাদের মানবিক হতে দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় নিয়ে যান। তাঁর এই কল্যাণচিন্তা অর্থের পেছনে না ছুটে মানবকল্যাণে কাজ করেছেন। তাঁর শ্রম ও অর্থ দিয়ে গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন।

উদ্দীপকে শিক্ষার দুটি দিক তথা জীবসত্তা ও মানবসত্তার কথা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই দুটি দিকের একটির প্রতিনিধি শাওন সাহের সুধাত্বের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। “শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের লেখকও এই দিকটি বিকাশ ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যটির প্রতিনিধি হাফিজ সাহেব। হাফিজ সাহেবের স্বভাব-বৈশিষ্ট্য ও কর্মকান্ডে শিক্ষার প্রকৃত দিক তথা মানবসত্তার বা থেকে বলা যায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

 

শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব সৃজনশীল প্রশ্ন  – ২

হাদি ও হায়দার দুই সহোদর ভাই। পড়ালেখা শেষ করে দুজনেই সরকারি চাকরিতে যোগদান করে। হাদির তুলনায় হায়দারের বেতন কম হলেও সে তাতেই সন্তুষ্ট। হায়দার মনে করে মানুষের সেবা করাই তার ব্রত। এ কারণে সে সদা কর্তব্যপরায়ণ ও দায়িত্বশীল। অন্যদিকে তার ভাই হাদি বেশি বেতন পাওয়ার পরও মানুষের ফাইল আটকে রেখে প্রচুর টাকা রোজগার করছে। বাড়তে থাকে তার বাড়ি-গাড়ি ও সম্পদ। দুর্নীতির মাত্রা বেড়ে গেলে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করে তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করে।

 

ক. শিক্ষার শ্রেষ্ঠ দিক কোনটি?

See also  hsc bangla 1st paper question 2022 solution

খ. লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয়।’- কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

গ. উদ্দীপকের হায়দারের মধ্যে শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের হাদির ভাবনা ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের লেখকের প্রত্যাশার বিপরীত।”— বিশ্লেষণ কর ।

 

উত্তরঃ

ক. শিক্ষার শ্রেষ্ঠ দিক হচ্ছে- অপ্রয়োজনীয় দিক।

খ. লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয়। – কথাটি দ্বারা এ বিষয়টি যে শিক্ষার সঙ্গে মেলে না তা বোঝানো হয়েছে।

‘লেফাফাদুরস্তি’ হচ্ছে বাইরের দিক থেকে ত্রুটিহীনতা কিন্তু ভিতরে প্রতারণা। লেখকের শিক্ষার আসল কাজ হলো মূল্যবোধ সৃষ্টি করা, জ্ঞান পরিবেশন করা নয়। শিক্ষার মাধ্যমে মনুষ্যত্ব লাভ করে মানুষ প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠে। শিক্ষা মানুষকে মনুষ্যত্বলোকের সঙ্গ্যে পরিচয় করায়। শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ সংকীর্ণতার গণ্ডি ছেড়ে বৃহতের দিকে যাত্রা করে। মনকে আলোকিত করে, ভিতরকে জাগিয়ে তোলে। অন্যদিকে লেফাফাদুরস্তি মানুষের মধ্যে কতকগুলো বাহ্যিক বিষয় সম্পর্কে কিছু ধারণা দেয়। মানুষ সেখানে মনুষ্যলোকের সন্ধান পায় না । এসব কারণেই লেখক লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয় বলে মন্তব্য করেছেন।

গ. উদ্দীপকের হায়দারের মধ্যে শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের শিক্ষার মাধ্যমে মনুষ্যত্ব অর্জনের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

মনুষ্যত্বই মানুষের সবচেয়ে বড় অর্জন। মনুষ্যত্ববোধসম্পন্ন মানুষ দ্বারা সুন্দর ও সুশৃঙ্খল মানবসমাজ গড়ে ওঠে। মনুষ্যত্ব হচ্ছে মানুষের সবরকম মানবীয় গুণের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা বিষয়, যা মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।

‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক মানুষের দুটি সত্তার কথা বলেছেন। এর একটি জীবসত্তা, অন্যটি মানবসত্তা বা মনুষ্যত্ব। জীবসত্তা মানুষের মৌলিক চাহিদা তথা খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা প্রভৃতির সন্ধান দেয়। আর মানবসত্তা মানুষকে ক্ষুধা নিবারণের আকাঙ্ক্ষা থেকে মুক্তি দিয়ে মনুষ্যত্বলোকের সন্ধান দেয়। মানুষ তা দিয়ে নিজেকে অন্যান্য প্রাণী থেকে উন্নত হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করে। প্রবন্ধের এই বিষয়টির সঙ্গে উদ্দীপকের হায়দারের মিল রয়েছে। কারণ তিনি লোভ-লালসাহীন ও দায়িত্বশীল মানুষ । তিনি সম্পদের পাহাড় না গড়ে জনসাধারণের সেবা করাকেই ব্রত মনে করেন। তাঁর কর্মকান্ডে শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য অর্জনের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। তার জীবনে শিক্ষা সোনা ফলাতে পেরেছে। এভাবে হায়দারের মধ্যে ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের শিক্ষার মাধ্যমে মনুষ্যত অর্জনের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকের হাদির ভাবনা ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের লেখকের প্রত্যাশার বিপরীত। – মন্তব্যটি যথার্থ।

জীবসত্তা থেকে মানবসত্তায় উত্তরণের মাধ্যম বা পথ হলো শিক্ষা। শিক্ষার আলোতে হৃদয় আলোকিত হয়, মানুষ অর্জন করে মনুষ্যত্ব। আর প্রকৃত শিক্ষার অভাবে মনুষ্যত্ব অর্জনের কাজটি অসমাপ্তই থেকে যায়। ফলে শিক্ষিত হয়েও মানুষ মনুষ্যত্বের অভাবে অন্ধকারেই থেকে যায়।

উদ্দীপকের হাদি শিক্ষিত হয়েও মনুষ্যত্ব বিবর্জিত। এ কারণে সে মানুষের ফাইল আটকে রেখে টাকা ঘুষ নিয়ে বাড়ি-গাড়ি করেছে। তার জন্য ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের লেখকের প্রত্যাশিত প্রকৃত শিক্ষাই কাম্য ছিল; যে শিক্ষা তার ভেতরে মনুষ্যত্ববোধকে জাগিয়ে তুলতে পারত। লেখক বলেছেন, মানুষের জীবন হলো একটি দোতলা ঘর। জীবসত্তা হলো সেই ঘরের নিচতলা আর মানবসত্ত্বা বা মনুষ্যত্ব হলো সেই ঘরে উপরের তলা। এই জীবসত্তা থেকে মানবসত্তার ঘরে পৌঁছানোর মই হলো শিক্ষা। শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ সৃষ্টি, যা উদ্দীপকের হাদির মধ্যে সৃষ্টি হয়নি।

‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ প্রত্যাশা করেছেন, যা প্রকৃত শিক্ষার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। আর উদ্দীপকের হাদি শিক্ষিত হলেও প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত নয়। তার শিক্ষায় মনুষ্যত্বের জাগরণ ঘটেনি। এ কারণে প্রশ্নোক্ত যথার্থ বলা যায়।

 

শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব সৃজনশীল – ৩

শিষ্ট ব্যবসায়ী ছালামত মিয়া তাঁর ছেলের উচ্চশিক্ষা গ্রহণ হতে বিরত রেখে ব্যবসায়ের কাজে নিয়োজিত করেন। তিনি মনে করেন ক্লিকাই জীবনের সব। অন্যদিকে জামান সাহেব তার ছেলেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশ এবং জাতির সেবামূলক কাজে ব্রত হওয়ার জন্য পরামর্শ দেন।

ক. মোতাহের হোসেন চৌধুরীর লেখায় কিসের প্রকাশ ঘটেছে?

খ. আত্মার অমৃত উপলব্ধি করা যায় না কেন?

গ. উদ্দীপকের ছালামত মিয়ার মানসিকতায় “শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের যে দিকটি প্রকাশ পেয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের জামান সাহেবের চিন্তা-চেতনা ও শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের লেখকের প্রত্যাশা একই”- মন্তব্যটির সত্যতা যাচাই কর।

 

উত্তরঃ

ক. মোতাহের হোসেন চৌধুরীর লেখায় মননশীলতা ও চিন্তার স্বাচ্ছন্দ প্রকাশ ঘটেছে।

খ. জীবসত্তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না বলে আত্মার অমৃত উপলব্ধি করা যায় না।

‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক মানুষের দুটি সত্তার কথা বলেছেন— জীবসত্তা এবং মানবসত্তা বা মনুষ্যত্ব। মানুষকে মনুষ্যত্বের অধিকারী হতে হয়। মানুষকে মানুষ হওয়ার এ বিশেষ কৌশলই শিক্ষা। শিক্ষা হলো জীবসত্তা থেকে মানবসত্ত্বায় উত্তরণের পদ্ধতি। শিক্ষা আমাদের জীবন-জগতের তাবৎ বিষয়াদি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা দেয়। মানুষের জীবসত্তার প্রয়োজনে অন্ন-বস্ত্রের চিন্তা থেকে মুক্তি এবং মূল্যবোধ তৈরির জন্য মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটানো উচিত। যথার্থ শিক্ষার মাধ্যমে মনুষ্যত্বের স্বাদ পেলে মানুষের অন্ন-বস্ত্র সমস্যার সমাধান সহজ হয়ে ওঠে। আবার ক্ষুৎপিপাসায় কাতর থাকলে আত্মার অমৃত উপলব্ধি করাও সম্ভব নয়।

গ. উদ্দীপকের ছালামত মিয়ার মানসিকতায় ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের বিধৃত অর্থচিন্তায় তাড়িত মানুষ প্রকৃত মনুষ্যত্ব অর্জন করতে না পারার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।

শিক্ষার মধ্য দিয়ে মানুষের জীবন আলোকিত হয়। শিক্ষা মনের সব অন্ধকার দূর করে। শিক্ষার মধ্য দিয়েই মানুষ মনুষ্যত্ব অর্জন করতে পারে।

উদ্দীপকের ছালামত মিয়া শিক্ষার সুফল লাভ করতে পারেননি যার জন্য তিনি মনুষ্যত্বলোকেও পৌঁছাতে পারেননি। তিনি ছেলেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ থেকে বিরত রেখে ব্যবসায়ের কাজে নিয়োজিত করেন। তিনি মূলত শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে বিবৃত জীবসত্তাকেই অতিরিক্ত প্রধান্য দিয়েছেন। তার মানসিকতায় প্রবন্ধের জীবসত্তার প্রতি মোহ ও লোভ দেখা দিয়েছে কিন্তু মানবসত্তা থেকে তিনি বঞ্চিত হয়েছেন । এর ফলে প্রকারান্তরে তিনি মনুষ্যত্ববিবর্জিত হয়ে পড়েছেন ।

See also  এস এস সি ইতিহাস সাজেশন ২০২৩

ঘ. উদ্দীপকের জামান সাহেবের চিন্তা-চেতনা ও শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের লেখকে প্রত্যাশা একই”- মন্তব্যটি যথার্থ। * মানুষের জীবনের দুটি দিক আছে। একটি হলো জীবসত্তাকে বাঁচিয়ে রাখার নিমিত্তে জৈবিক চাহিদা মেটানোর অপরিহার্য দিক, অপরটি হলো মানবসত্তার বিকাশ। মানবসত্তার জন্য প্রয়োজন যথার্থ শিক্ষা।

উদ্দীপকে দেখা যায়, জামান সাহেব তার ছেলেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশ এবং জাতির সেবামূলক কাজে ব্রত হওয়ার পরামর্শ দেন; যেখানে ছালামত মিয়া ছেলের উচ্চশিক্ষা বন্ধ করে ব্যবসায়ের কাজে লাগিয়েছেন। জামান সাহেবের এই চিন্তা-চেতনা ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের লেখকের প্রত্যাশার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। প্রবন্ধে লেখক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, মানুষকে জীবসত্তার ঘর থেকে মানবসত্তার ঘরে উন্নীত করার মই হলো শিক্ষা । তিনি শক্ষার নানামুখী ইতিবাচক দিক তুলে ধরেছেন।

শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক বলেছেন অন্ন-বস্ত্রের চিন্তা থেকে মুক্তি এবং শিক্ষা লাভের মাধ্যমে মনুষ্যত্বের ঘটে। উদ্দীপকের জামান সাহেবের কর্মকাণ্ডে প্রাবন্ধিকের প্রত্যাশার প্রতিফলন লক্ষযোগ্য। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের জামান সাহেবের চিন্তা-চেতনা ও শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের লেখকের প্রত্যাশা একই। সুতরাং উক্তিটি যথার্থরূপে সত্য।

 

শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব সৃজনশীল – ৪

বিএ পাস করার পর আজিজ সাহেব একটি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিতে উচ্চপদে চাকরি নেন। অবৈধ রোজগারে অল্পসময়ে তিনি বাড়ি গাড়ি মালিক হয়ে যান। অর্থ-সম্পদের মালিক হওয়াই তার একমাত্র লক্ষ্য। অপরদিকে, জাহিদ সাহেবের স্ত্রী সুযোগ বুঝে টাকা-পয়সা কামিয়ে নেয়ার পরামর্শ দিলে তিনি বলেন, “অর্থ-সম্পদ মানুষকে সুখ দিতে পারে না; বরং ধ্বংস ডেকে আনে।”

ক. শিক্ষার আসল কাজ কী?

খ. অর্থচিন্তার নিগড়ে সকলে বন্দি’- বলতে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন?

গ. উদ্দীপকে জাহিদ সাহেব তার স্ত্রীর প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার কারণ শিক্ষ ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের আজিজ সাহেবের মানসিকতার পরিবর্তনই ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের মূল উদ্দেশ্য”- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

 

উত্তরঃ

ক. শিক্ষার আসল কাজ মূল্যবোধ সৃষ্টি করা।

খ. ‘অর্থচিন্তার নিগড়ে সকলে বন্দি’ বলতে লেখক মূলত জীবসভার চাহিদা মেটাতে মানবসত্তা বিসর্জন দিয়ে অর্থচিন্তায় মগ্ন হওয়াকে বুঝিয়েছেন।

শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য মূল্যবোধ সৃষ্টি করে মনুষ্যত্ববোধসম্পন্ন মানুষ তৈরি করা। কিন্তু বর্তমানে অর্থসাধনাই মানুষের মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। শিক্ষাকে তারা অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করছে। মানুষ কেবল অন্ন-বস্ত্রের চিন্তায় বাস্ত হয়ে পড়ছে। ফলে তারা প্রকৃত মনুষ্যত্ব অর্জন করতে পারছে না। মানবসত্তার সুষ্ঠু বিকাশে যেমন অর্থের প্রয়োজন আছে, তেমনই প্রয়োজন আছে সেই শিক্ষার, যে শিক্ষা মানুষকে মনুষ্যত্ব অর্জনে সহায়তা করে। সমাজের অধিকাংশ মানুষই এ বিষয়টি অনুধাবন করতে পারে না। তার কেবল অর্থ উপার্জনের পেছনেই ছুটে চলেছে। এ কথা বোঝাতেই লেখক প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।

গ. উদ্দীপকে জাহিদ সাহেব তার স্ত্রীর প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার কারণ শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের আলোকে বলা যায়, শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য উপলব্ধি করতে পারা এবং মূল্যবোধ সৃষ্টি হওয়া।

শিক্ষা মানুষের মূল্যবোধ তৈরি করে। যারা শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য উপলব্ধি করতে পারে তারা সমাজের জন্য ভালো কাজ করেন। তারা আলোকিত মানুষ। অন্নবস্ত্রের বাইরেও তারা আরও অনেক বিষয়ে চিন্তা করতে পারেন। তারা শিক্ষাকে শুধু অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার মনে করেন না।

‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। এখানে শিক্ষার প্রয়োজনের দিকের সঙ্গে সঙ্গে অপ্রয়োজনের দিকও তুলে ধরেছেন। তিনি অপ্রয়োজনের দিকটির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন । কারণ এই দিকটিই মানুষকে আনন্দ পেতে শেখায়, মানুষকে সুন্দরভাবে বাঁচতে শেখায়, মানুষের মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত করে মানুষকে অর্থচিন্তার নিগড় থেকে মুক্তি দেয়, যা উদ্দীপকের জাহিদ সাহেবের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে। তাই তিনি স্ত্রীর প্রস্তাবে রাজি হননি এবং স্ত্রীর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে পেরেছেন। কারণ তিনি প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত। তার মধ্যে মূল্যবোধ সৃষ্টি হয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকের আজিজ সাহেবের মানসিকতার পরিবর্তনই ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের মূল উদ্দশ্য”- মন্তব্যটি যথার্থ।

শিক্ষা মানুষের মধ্যে মূল্যবোধ সৃষ্টি করে। মানুষকে অন্ধকার পথ থেকে মুক্তি দেয়। মানুষের সৃজনশীলতা মানবসত্তার বিকাশ ঘটায়। মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে।

‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক মানুষের জীবসত্তা ও মানবসত্ত্বার সঙ্গে শিক্ষার সম্পর্ক তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে শিক্ষার ফলে। মনুষ্যত্বের স্বাদ পেলে অন্ন-বস্ত্র সমস্যার সমাধান সহজ হয়ে ওঠে। সঠিকভাবে শিক্ষা দ্বারা অর্থচিন্তায় ব্যস্ত মানুষ মনুষ্যত্ব অর্জনে সক্ষম। হয়। লেখক মানবজীবনে মনুষ্যত্বের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে গুরুত্ব নির্দেশ করেছেন। আত্মাকে বাঁচাতে হলে উপযুক্ত শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়। লেফাফাদুরস্তির মতো শিক্ষা নয়, সঠিক শিক্ষা প্রয়োজন। উদ্দীপকের আজিজ সাহেবের মধ্যে শিক্ষার এসব দিক অনুপস্থিত। ফলে তার মানসিক বিকাশ প্রকৃত শিক্ষা অনুসারে হয়নি। আর এ কারণেই তিনি অবৈধভাবে রোজগারে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি অর্থচিন্তার নিগড়ে বন্দি একজন মানুষ

‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের মূল বক্তব্য হলো শিক্ষার মাধ্যমে মনুষ্যত্ববোধ সৃষ্টি করা, মনুষ্যত্বের জাগরণ ঘটানো। মনুষ্যত্ববোধ সৃষ্টি হয়নি বলেই আজিজ সাহেব অসদুপায় অবলম্বন করেছেন। প্রবন্ধের মূল বক্তব্য শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধ সৃষ্টি করে মানুষকে মনুষ্যত্ববোধসম্পন্ন করা, যা আজিজ সাহেবের মানসিকতা পরিবর্তনে একান্ত কার্যকর হবে। কারণ মূল্যবোধ সৃষ্টি হলেই তার মানসিকতা পরিবর্তিত হবে। এসব দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

 

আরো পড়ুনঃ সুভা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

 

শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব প্রবন্ধের আরো সৃজনশীল

 

প্রিয় বন্ধুরা উপরে তোমাদের জন্য ৪ টি সৃজনশীল প্রশ্ন এবং উত্তর দেওয়া হয়েছে। আর সেই আলোকে নিচে আরো কয়েকটি সৃজনশীল দেওয়া হলো উত্তর ছাড়া। সেইগুলো তোমরা উপরের সৃজনশীল এবং পাঠ্য বইয়ের আলোকে সলভ করার চেষ্টা করবে।

 

শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব সৃজনশীল – ৫

জাতির জীবনধারা গঙ্গা-যমুনার মতো দুই ধারায় প্রবাহিত। এক ধারার নাম আত্মরক্ষা বা স্বার্থপ্রসার, আরেক ধারার নাম আত্মপ্রকাশ বা পরামর্শ বৃদ্ধি। একদিকে যুদ্ধবিগ্রহ, মামলা-ফ্যাসাদ প্রভৃতি কদর্য দিক, অপরদিকে সাহিত্যশিল্প, ধর্ম প্রভৃতি কল্যাণপ্রদ দিক। একদিকে শুধু কাজের জন্য কাজ, অপরদিকে আনন্দের জন্য কাজ। একদিকে সংগ্রহ, আরেকদিকে সৃষ্টি। যে জাতি দ্বিতীয় দিকটির প্রতি উদাসীন থেকে শুধু প্রথম নিজারি সাধনা করে, সে জাতি কখনও উঁচু জীবনের অধিকারী হতে পারে না। জীবনে শ্রী ফোটাতে হলে দ্বিতীয় দিকটির সাধনা প্রয়োজন।

See also  Tense মনে রাখার সহজ উপায়

ক. লেফাফাদুরস্তি কী?

খ. অর্থচিন্তার নিগড়ে সকলে বন্দি কেন? ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের উল্লিখিত বক্তব্যটি শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের কোন দিকটির ইঙ্গিত প্রদান করে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের দ্বিতীয় দিকটি ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের আংশিক না সামগ্রিক ভার বহন করে? এ সম্পর্কে তোমার নিজস্ব মতামত প্রদান কর।

 

শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব সৃজনশীল – ৬

লিটন ও রাজু দুই বন্ধু। তারা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে একই পেশায় নিয়োজিত। লিটনের কর্মস্থল বান্দরবান। আর রাজুর কর্মস্থল বগুড়ায়। একদিন রাজু ফোন করে লিটনকে বলে, “বন্ধু তোর ভাবী অসুস্থ। অপারেশনের জন্য অনেক টাকা দরকার। আমাকে কিছু ধার দিয়ে সাহায্য কর।” লিটন তাকে সান্ত্বনা দেয় ও সাধ্যমতো টাকা ধার দেয়। এরপর থেকে রাজু তার ফোন নম্বর বন্ধ করে নেয়। টিন তার অন্যান্য বন্ধুদের সাথে কথা বলে জানতে পারে রাজুর এটা একটা কৌশল। এভাবে বন্ধুদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে সে আর পরিশোধ করে না। লিটনকে সবাই বোকা বললেও তার সান্ত্বনা, সে বন্ধুর বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে নিতে পেরেছে।

ক. জ্ঞান পরিবেশন কিসের উপায়?

খ. প্রাণিত্বের বাঁধন বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

গ. উদ্দীপকের লিটন চরিত্রে ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে উল্লিখিত শিক্ষার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের রাজুর জীবনে শিক্ষা সোনা ফলাতে পারেনি কেন? ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

 

শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর
শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

 

শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব সৃজনশীল – ৭

শিক্ষক গৌরব দাস দশম শ্রেণির ছাত্র আজাদকে তার জীবনের লক্ষ্য কী জানতে চাইলে আজাদ বলে, আমি বাবার মতো ব্যবসায়ী হতে চাই। কারণ বাবা বলেন, “জগতে টাকাই সব।” তার কথা শুনে শিক্ষক গৌরব দাস বলেন অর্থ উপার্জনের চেয়ে মনুষ্যত্ব অর্জন করাই শ্রেয়। কথায় আছে, প্রাণ থাকলে প্রাণী হয়, কিন্তু মন না থাকলে মানুষ হয় না।

ক. শিক্ষার শ্রেষ্ঠ দিক কোনটি?

খ. অন্নবস্ত্রের প্রাচুর্যের চেয়েও মুক্তি বড়”- ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের আজাদের বাবার মাঝে শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের যে দিকটি প্রকাশিত ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের শিক্ষকের বক্তব্যে ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে বর্ণিত শিক্ষার অপ্রয়োজনীয় দিকটি লক্ষ করা যায়- বিশ্লেষণ কর।

 

শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব সৃজনশীল – ৮

মেধাবী ছাত্র হাসান লেখাপড়া শেষ করে সরকারি উচ্চ পদে একটি চাকরি পায়। ইচ্ছে করলেই সে অনেক আর্থিক সম্পদের মালিক হতে পারে । কিন্তু সে এটা পছন্দ করে না। তার সহকর্মী সুজা ইতোমধ্যে অনেক অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছে। সে হাসানকে নানাভাবে প্রলুব্ধ করে। কিন্তু হাসান তার অনৈতিক প্রস্তাবকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে চাকরিজীবন শেষ করে। এখন তার অঢেল ধন-সম্পদ না থাকলেও সবাই তাকে সম্মান করে।

ক. জ্ঞান পরিবেশন কিসের উপায়?

খ. ‘প্রাণিত্বের বাঁধন’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের সুজা চরিত্রে ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের কোন ভাবটি ফুটে উঠেছে- ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের হাসানের কর্মকাণ্ডে ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের লেখকের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে বলে কি তুমি মনে কর? তোমার মতামত দাও।

 

শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব সৃজনশীল – ৯

রফিক সাহেব ও মিসেস ইয়াসমিন একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেন। রফিক সাহেব একটি অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন । তিনি বিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত। তাই তিনি তার বেতনের বাইরে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অনৈতকিভাবে টাকা- পয়সা গ্রহণ করেন । অন্যদিকে মিসেস ইয়াসমিন শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। তিনি শ্রেণিতে পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার চেষ্টা করেন। শিক্ষার্থীদের তিনি পাঠ্যবই ছাড়াও বিভিন্ন বই-পুস্তক পড়ে নিজের জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করার জন্য উৎসাহিত করেন।

ক. লোভের ফলে কিসের মৃত্যু ঘটে?

খ. লেখক শিক্ষাকে ‘মই’ হিসেবে দেখেছেন কেন?

গ. উদ্দীপকের রফিক সাহেবের চরিত্রে ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে বর্ণিত শিক্ষার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের মিসেস ইয়াসমিন শিক্ষার আসল উদ্দেশ্যকে ধারণ করতে পেরেছেন।”— ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

 

শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব সৃজনশীল – ১০

জাহিদ ও শহিদ একটি অধিদপ্তরে কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করে। জাহিদ মনে করে জনসাধারণের সেবা করাই তার ব্রত। এ কারণেই সে লোভলালসাহীন ও দায়িত্বশীল। অন্যদিকে শহিদ তার পদকে ব্যবহার করে ক্রমাগত দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। বাড়তে থাকে বাড়ি- গাড়ি, অঢেল সম্পদ । দুর্নীতির মাত্রা বেড়ে গেলে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করে আইনের হাতে তাকে সোপর্দ করে।

ক. ক্ষুৎপিপাসা কী?

খ. ‘লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয় – কেন?

গ. জাহিদ সাহেবের মধ্যে শিক্ষার যে দিক প্রতিফলিত হয়েছে তা ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

ঘ. শহিদ সাহেবের মতো ব্যক্তিদের করুণ পরিণতি থেকে উত্তরণের উপায় ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

 

শেষ কথা

 

তো প্রিয় বন্ধুরা আজকের এই পোস্ট এ আপনারা জানলেন কয়েকটি শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর এবং এরই সাথে কিছু এক্সট্রা সৃজনশীল প্রশ্ন। আশা করছি এই পোস্ট টি আপনাদের কাছে অনেক টা ভালো লেগেছে।

ভালো লেগে থাকলে কিন্তু অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন আমাদের। আর এরকম সব পোস্ট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করতে থাকুন আমাদের এই ওয়েব সাইট টি তে। আবার দেখা হবে পরবর্তী কোনো পোস্ট এ। সে পর্যন্ত সকলে ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। আল্লাহ হাফেয।

 

Leave a Comment