অনলাইনে ইনকাম

ইউটিউব থেকে আয় করার উপায় ২০২৩

ইউটিউব থেকে আয় করার উপায় ২০২৩

হ্যালো প্রিয় বন্ধুরা, আশা করি আপনারা সকলেই অনেক ভালো আছেন। আপনাদের কে আমাদের এই সাইটে আমার পক্ষ থেকে জানাই স্বাগতম। আজকের পোস্ট এ আমি আপনাদের সাথে ইউটিউব থেকে আয় করার উপায় এই বিষয় টি নিয়ে কথা বলবো। তো চলুন দেরি না করে পোস্ট টি শুরু করে দেওয়া যাক।

 

ইউটিউব থেকে আয় করার উপায় ২০২৩

 

বর্তমানে অনলাইনে ইনকাম করার টপিক টি মাথায় আসলেই সবার আগে মাথায় যে কয়েকটি টপিক আসে তার মধ্য একটি ও অন্যতম টপিক হলো ইউটিউব থেকে আয়। এটি একটি অনলাইন ভিডিও প্লার্টফর্ম, যেখানে ভিডিও আপলোড করে আয় করা যায়।

তবে ইউটিউব থেকে আয় করতে হলে আপনাকে কয়েকটি স্টেপ এবং কয়েকটি টাস্ক পূরণ করতে হবে। তবেই আপনি ইউটিউব থেকে আয় করতে পারবেন। আজকে আমরা ইউটিউব থেকে আয় করার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভাবে জানবো।

 

ইউটিউব থেকে আয় করতে কী কী লাগবে

 

ইউটিউব থেকে আয় করতে হলে আপনার কয়েকটি জিনিসের প্রয়োজন হবে, নিচে তা দেওয়া হলোঃ-

১. স্মার্ট ফোন, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার
২. ফাস্ট ইন্টারনেট কানেকশন
৩. ইউটিউব চ্যানেল
৪. চ্যানেলে ভিডিও আপলোড এর জন্য ভিডিও কন্টেন্ট।

এই ৪ টি জিনিস যদি আপনার কাছে থাকে, বা আপনি সময় মতো তৈরি করে নিতে পারেন তবে আপনার জন্য ইউটিউব থেকে আয় করাটা অনেক সহজ হয়ে যাবে। নিচে এই ৪ টি বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

১. স্মার্ট ফোন, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারঃ আপনার ইউটিউব থেকে আয় করার জন্য স্মার্টফোন, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এর যে কোনো একটি থাকতেই হবে। কেননা এগুলো ছাড়া আপনি ইউটিউব ব্যবহার করতে পারবেন না। আর ইউটিউব ব্যবহার না করলে আয় কিভাবে হবে?

২. ফাস্ট ইন্টারনেট কানেকশনঃ ইউটিউবে সব সময় ভিডিও আপলোড এর সময় লক্ষ্য রাখতে হয় ভিডিও এর কোয়ালিটি যেন অনেক ভালো হয়। তো এর জন্য ভিডিও তৈরি এর সময় বেশি কোয়ালিটি করলে সেটার সাইজ অনেক বেশি এমবি বা জিবি হয়ে যায়। এই বেশি সাইজের ভিডিও আপলোড করার জন্য অবশ্যই একটি ফাস্ট ইন্টারনেট কানেকশন দরকার হবে।

৩. ইউটিউব চ্যানেলঃ ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করার জন্য একটি নিজস্ব একাউন্ট এর প্রয়োজন হয়। মূলত এটাকেই ইউটিউব চ্যানেল বলে।

৪. ভিডিও কন্টেন্টঃ নিজের চ্যানেলে ভিডিও আপলোড এর জন্য একটি নিজের চ্যানেল দরকার হয়। সেখানে নিজের করা ভিডিও আপলোড করতে হয়। পরে সব ঠিক থাকলে মনিটাইজেশন করে টাকা ইনকাম করা যায়। তবে ভিডিও টি কপি হলে তা সম্ভব হবে না।

 

ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম

 

ইউটিউব থেকে আয় করতে গেলে প্রথমেই একটি ইউটিউব চ্যানেল এর দরকার হবে। তো যারা এই বিষয়ে নতুন কাজ শুরু করেছেন তারা নিশ্চয়ই জানেন না যে কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল খুলতে হয় এবং ভেরিফাই করতে হয়। তো চলুন আগে দেখে নেই কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল খুলতে হয়।

 

মোবাইল দিয়ে ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম

 

মোবাইল ফোন দিয়ে ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম টি অনেকটাই সহজ। কারণ বর্তমানে সব ফোনেই ইউটিউব এপটি অটোমেটিক ইন্সটল থাকে। ফলে নতুন করে কোনো ঝামেলা হয় না। তো চলুন এবার জেনে নেই যে, মোবাইল ফোন দিয়ে কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল খোলা যায়।

১. প্রথমে ফোনের ইন্টারনেট কানেকশন অন করে ফোন থেকে ইউটিউব এপটিতে প্রবেশ করুন।

২. এবার একদম উপর এর ডান সাইডে একটি প্রোফাইল লোগো পাবেন। সেখানে ক্লিক করুন।

[মূলত এটি আপনার ইমেইল আইডি এর লোগো। যে ইমেইল দিয়ে লগ ইন থাকবে সেটা দিয়ে চ্যানেল খুলবে। তাই প্রয়োজনে ইমেইল পরিবর্তন করে নিবেন আগেই।]

৩. এবার আপনি সেখানে অনেক অপশন দেখতে পাবেন। সেখান থেকে আপনি “Your Channel” একটি অপশন পাবেন। সেখানেই ক্লিক করে দিন।

৪. এবার দেখুন সেখানে আপনার চ্যানেলের লোগো এবং নাম চাচ্ছে। তো সেগুলো দিয়ে দিন নিজের মতো করে এবং শেষে নিচে থাকা Create Channel এ ক্লিক করে দিন।

৫. ব্যস আপনার ইউটিউব চ্যানেল টি খোলা হয়ে গেলো মোবাইল থেকে।

 

আরো পড়ুনঃ অনলাইন স্টুডেন্ট ইনকাম ২০২৩

 

কম্পিউটার দিয়ে ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম

 

কমম্পিউটার দিয়েও ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়মটা অনেক সহজ। তো চলুন দেখে নেই কম্পিউটার দিয়ে ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়মটি।

১. প্রথমেই কম্পিউটারে ইন্টারনেট কানেকশন অন করে নিন।

২. এবার যেকোনো একটি ব্রাউজার (গুগল ক্রোম বেস্ট হবে) থেকে YouTube.com এই লিংক এ চলে যান।

৩. এরপর সেখানে যাওয়ার পর উপরের ডান দিকে প্রোফাইল এ ক্লিক করে দিবেন। তবে যদি লগ ইন না থাকে তবে প্রোফাইল লোগো দেখাবে না। তো তখন আগে লগ ইন করে নিবেন। এরপর প্রোফাইল লোগো তে ক্লিক করবেন।

৪. এবার আপনি সেখানে অনেক অপশন দেখতে পাবেন। সেখান থেকে আপনি “Your Channel” একটি অপশন পাবেন। সেখানেই ক্লিক করে দিন।

৫. এবার দেখুন সেখানে আপনার চ্যানেলের লোগো এবং নাম চাচ্ছে। তো সেগুলো দিয়ে দিন নিজের মতো করে এবং শেষে নিচে থাকা Create Channel এ ক্লিক করে দিন।

৬. ব্যস আপনার ইউটিউব চ্যানেল টি খোলা হয়ে গেলো কম্পিউটার থেকে।

 

ইউটিউব চ্যানেল ভেরিফাই করার নিয়ম

 

ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম আমরা দেখলাম উপরে, এবার ইউটিউব চ্যানেল ভেরিফাই এর নিয়ম দেখে নেই। ইউটিউব চ্যানেল ভেরিফাই না করলে কয়েকটি সিস্টেম অফ থাকে। তো কী কী অফ থাকে সেগুলো জেনে নেই আগে।

১. ১৫ মিনিট এর বেশি বড় ভিডিও গুলো আপলোড করতে পারবেন না।

২. ভিডিও তে কাস্টম থাম্বনেইল লাগাতে করতে পারবেন না।

৩. অনলাইনে লাইভ স্ট্রিমিং করতে পারবেন না।

৪. চ্যানেল এ মনিটাইজেশন এর আবেদন করতে পারবেন না।

তো এই জিনিস গুলোকে আনলক করার জন্য, আমাদের ইউটিউব চ্যানেলকে ভেরিফাই করতেই হবে। তো চলুন ইউটিউব চ্যানেল ভেরিফাই করার নিয়ম জেনে নেই। এই নিয়মটি কম্পিউটার এবং মোবাইল উভয়ের জন্যই সেইম।

১. প্রথমেই যে কোনো ব্রাউজার (গুগল ক্রোম বেস্ট হবে) থেকে Studio.YouTube.com এই লিংকটিতে চলে যান।

২. যদি ইউটিউব চ্যানেলে লগ ইন করা না থাকে তবে লগ ইন করে নিন।

৩. এবার বাম দিকে দেখবেন যে একটি মেনু আইকন আছে। সেখান থেকে সেটিংস চলে যান।

৪. এবার চ্যানেল ট্যাব টি সিলেক্ট করে নিন।

৫. এখন Verify Phone Number এ ক্লিক করুন।

৬. এবার Text me a verify code অপশনটি সিলেক্ট করে দিন।

৭. এরপরে select your country থেকে আপনার বসবাস করার দেশ সিলেক্ট করে নিন।

৮. এবার আপনার স্ক্রিনে একটি বক্স আসবে। সেখানে দেশের কোড সহ মোবাইল নাম্বার দিবেন।

৯. এবার সেই নাম্বারে একটি কোড যাবে। সেই কোড টি দিয়ে ভেরিফাই করে দিবেন।

১০. ব্যাস আপনার ইউটিউব চ্যানেল টি ভেরিফাই হয়ে যাবে।

 

ইউটিউব থেকে আয় করার উপায় ২০২৩
ইউটিউব থেকে আয় করার উপায় ২০২৩

 

ইউটিউব থেকে আয়  করার নিয়ম

 

ইউটিউব থেকে আয় করতে হলে আপনাকে ইউটিউবে খোলা নিজের চ্যানেলে প্রতিনিয়ত ভিডিও আপলোড করতে হবে। তবে খেয়াল রাখবেন ভিডিও টি যেন অন্যর করা না হয়। নিজের তৈরি ভিডিও টি ই শুধু চ্যানেলে আপলোড করবেন। না হলে কপি রাইট পেলে চ্যানেল বাতিল হয়ে যাবে।

ইউটিউব থেকে আয় করে হলে আপনাকে ভিডিও আপলোড করার পাশা পাশি সেগুলো প্রচারণও করতে হবে। কারণ ভিডিও আপলোড করেই আপনি আয় করতে পারবেন না প্রথমে। কেননা ইউটিউব চ্যানেলে মনিটাইজেশন না পেলে আয় করা যায় না।

আর এই মনিটাইজেশন পেতে হলে ইউটিউব চ্যানেল এ ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার এবং ৪ হাজার ঘন্টা (২,৪০,০০০ মিনিট) ওয়াচ টাইম লাগবে। তো এই সাবস্ক্রাইবার ও ওয়াচ টাইম পেতে হলে নিয়মিত ভিডিও আপলোড করতে হবে সাথে দেখতে হবে যে ভিডিও টি যেনো সবাই পুরো পুরি দেখে।

কেননা এর ফলেই ওয়াচ টাইম বাড়বে। তাই ভিডিও যেনো পুরোটা মানুষ দেখে তাই সেই রকমের ভিডিও ই আপলোড করতে হবে। আপনি যদি ১০০০ (১ হাজার) সাবস্ক্রাইবার পেয়ে যান এবং ৪ হাজার ওয়াচ টাইম পান তবে মনিটাইজেশন এর জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আর মনিটাইজেশন পেয়ে গেলে পরে ভিডিও আপলোড করলে সেটার ভিউ এর উপর ভিত্তি করে আপনি ইউটিউব থেকে আয় করতে পারবেন।

how to earn youtube money

 

শেষ কথা

 

তো প্রিয় বন্ধুরা আজকের এই পোস্ট এ আপনারা জানলেন, ইউটিউব থেকে আয় করার নিয়ম, ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম ইত্যাদি। আশা করছি এই পোস্ট টি আপনাদের কাছে অনেক টা ভালো লেগেছে।

ভালো লেগে থাকলে কিন্তু অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন আমাদের। আর এরকম সব পোস্ট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করতে থাকুন আমাদের এই ওয়েব সাইট টি তে। আবার দেখা হবে পরবর্তী কোনো পোস্ট এ। সে পর্যন্ত সকলে ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। আল্লাহ হাফেয।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *