রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেসার মানুষের শরীরের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের হৃদপিণ্ড রক্ত পাম্প করার মাধ্যমে শরীরের প্রতিটি অঙ্গে অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ করে। এই প্রক্রিয়ার সময় রক্তনালীতে একটি চাপ সৃষ্টি হয়, যাকে আমরা রক্তচাপ বলি। স্বাভাবিক অবস্থায় একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের রক্তচাপ থাকে প্রায় ১২০/৮০ মিমি এইচজি (mmHg)। কিন্তু এই স্বাভাবিক সীমা অতিক্রম করলে তা হাই প্রেসার (High Blood Pressure) বা নিচে নেমে গেলে লো প্রেসার (Low Blood Pressure) হিসেবে ধরা হয়। হাই ও লো প্রেসার উভয়ই শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং সময়মতো নিয়ন্ত্রণে না আনলে মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
সূচিপত্র
হাই প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপ কি?
হাই প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপ তখনই ঘটে যখন রক্তচাপ ১৪০/৯০ মিমি এইচজি বা তার বেশি হয় এবং তা দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী থাকে। এই অবস্থায় হৃদপিণ্ডকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়, যার ফলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি সমস্যা এবং দৃষ্টি শক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। উচ্চ রক্তচাপকে অনেক সময় “Silent Killer” বলা হয় কারণ অনেক ক্ষেত্রে এটি স্পষ্ট কোনো লক্ষণ প্রকাশ করে না।
হাই প্রেসারের লক্ষণসমূহ
যদিও অনেক সময় কোনো লক্ষণ দেখা যায় না, তবে কিছু সাধারণ উপসর্গ লক্ষ্য করা যায়—
-
মাথাব্যথা, বিশেষত সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর।
-
মাথা ঘোরা ও ঝিমঝিম ভাব।
-
চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া।
-
বুক ধড়ফড় করা বা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া।
-
অতিরিক্ত ক্লান্তি ও অবসাদ।
-
নাক থেকে রক্ত পড়া।
-
শ্বাসকষ্ট বা হাপানির মতো অনুভূতি।
উপরে উল্লেখিত লক্ষণগুলো থাকলে দ্রুত রক্তচাপ পরীক্ষা করা জরুরি।
লো প্রেসার বা নিম্ন রক্তচাপ কি?
লো প্রেসার বা হাইপোটেনশন তখনই ঘটে যখন রক্তচাপ ৯০/৬০ মিমি এইচজি বা তার কম হয়ে যায়। এ অবস্থায় শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন পায় না। এর ফলে মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড এবং কিডনির কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। লো প্রেসার সাধারণত দুর্বলতা, পানি শূন্যতা, অতিরিক্ত ওষুধ খাওয়া বা দীর্ঘ সময় ক্ষুধার্ত থাকার কারণে হয়ে থাকে।
লো প্রেসারের লক্ষণসমূহ
নিম্ন রক্তচাপের সময় শরীরে যেসব লক্ষণ দেখা দেয় তা হলো—
-
হঠাৎ মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
-
দুর্বলতা ও অবসাদ অনুভব।
-
দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া।
-
বুক ধড়ফড় করা।
-
শ্বাসকষ্ট ও ঠান্ডা অনুভব।
-
হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া।
-
একাগ্রতা কমে যাওয়া বা বিভ্রান্তি।
এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
হাই ও লো প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায়
হাই ও লো প্রেসার নিয়ন্ত্রণের জন্য জীবনধারায় পরিবর্তন আনা জরুরি। যেমন—
-
সুষম খাদ্য গ্রহণ করা।
-
অতিরিক্ত লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা।
-
নিয়মিত ব্যায়াম করা।
-
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা।
-
পর্যাপ্ত পানি পান করা।
-
নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা।
হাই প্রেসার ও লো প্রেসার উভয়ই শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সচেতন থাকতে হবে, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখলেই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।