দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর সেরা কিছু উপায়

উচ্চ রক্তচাপ বা হাই প্রেসার বর্তমান যুগে একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা হলেও এর জটিলতা ভয়াবহ হতে পারে। এটি নীরবে শরীরের ভেতরে ক্ষতি সাধন করে এবং হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি বিকল এমনকি অকাল মৃত্যুর কারণ হতে পারে। অনেক সময় হাই প্রেসার হঠাৎ বেড়ে গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, জীবনধারা পরিবর্তন এবং কিছু প্রাকৃতিক পদ্ধতি দ্রুত রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। আসুন জেনে নেই দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর সেরা কিছু উপায়।

হাই প্রেসার হঠাৎ বাড়লে প্রাথমিক করণীয়

রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে গেলে প্রথমেই শান্ত থাকতে হবে এবং আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে হবে যা শরীরকে শান্ত করবে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনবে। যদি ওষুধ খাওয়ার নির্দেশনা থেকে থাকে তবে তাৎক্ষণিকভাবে সঠিক ডোজ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ঠাণ্ডা ও শান্ত পরিবেশে বিশ্রাম নেওয়া উচিত।

লবণ কম খাওয়া

অতিরিক্ত লবণ খাওয়া উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম প্রধান কারণ। লবণে থাকা সোডিয়াম শরীরে পানির ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায়। তাই দ্রুত হাই প্রেসার নিয়ন্ত্রণে আনতে খাবারে লবণের পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে। প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্ট ফুড, আচার ও ক্যানজাত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।

প্রচুর পানি পান

শরীরে পানি স্বল্পতা রক্তচাপ বাড়াতে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা জরুরি। বিশেষ করে হাই প্রেসার হঠাৎ বেড়ে গেলে ধীরে ধীরে এক গ্লাস পানি পান করলে তা সাময়িকভাবে চাপ কমাতে সাহায্য করে। পানি শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক করে।

মানসিক চাপ কমানো

মানসিক চাপ বা স্ট্রেস হাই প্রেসার দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই রিলাক্স করার জন্য মেডিটেশন, যোগব্যায়াম বা গভীর শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। দিনে ১০–১৫ মিনিট শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করলে তাৎক্ষণিকভাবে রক্তচাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।

See also  ওষুধ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায় জেনে নিন কার্যকর উপায়

খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন

দ্রুত হাই প্রেসার নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করতে হবে।

  • সবুজ শাকসবজি, ফলমূল, শস্যজাতীয় খাবার এবং আঁশযুক্ত খাদ্য বেশি খেতে হবে।

  • কলা, কমলা, টমেটো, পালং শাক, শসা ইত্যাদিতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

  • চর্বিযুক্ত ও ভাজা খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।

  • ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল কমাতে হবে।

নিয়মিত ব্যায়াম

হাই প্রেসার কমাতে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম যেমন হাঁটা, সাইক্লিং বা যোগব্যায়াম খুব কার্যকর। হাঁটাহাঁটি রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করলে দ্রুত ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়।

ওজন নিয়ন্ত্রণ

অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম কারণ। ওজন নিয়ন্ত্রণে আনলে দ্রুত রক্তচাপ কমানো সম্ভব। এজন্য ক্যালোরি কম খাওয়া, স্বাস্থ্যকর ডায়েট মেনে চলা এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা অপরিহার্য।

ধূমপান ও অ্যালকোহল বর্জন

ধূমপান করলে রক্তনালী সংকুচিত হয় এবং রক্তচাপ দ্রুত বেড়ে যায়। একইভাবে অ্যালকোহলও রক্তচাপ বৃদ্ধি করে। তাই হাই প্রেসার নিয়ন্ত্রণে আনতে ধূমপান ও অ্যালকোহল সম্পূর্ণ বর্জন করতে হবে।

পর্যাপ্ত ঘুম

অনিদ্রা বা ঘুমের ঘাটতি হাই প্রেসার বাড়াতে পারে। নিয়মিত ৭–৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম শরীরকে সতেজ রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তাই রাতে দেরি করে জেগে থাকা এবং অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার এড়িয়ে চলা জরুরি।

হাই প্রেসার একটি নীরব ঘাতক হলেও জীবনধারায় সামান্য পরিবর্তন এনে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। লবণ কমানো, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, প্রচুর পানি পান, নিয়মিত ব্যায়াম ও মানসিক প্রশান্তি রক্তচাপ দ্রুত কমাতে সাহায্য করে। তবে হাই প্রেসার দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হবে। নিজের অভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনলেই হাই প্রেসারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

Leave a Comment